
সাফজয়ী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেছেন, সাকিব আল হাসান যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গত ১৫ বছর ধরে যে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছি, সেটি যেন আর কারও প্রতি না হয়। সাকিবের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু এই মামলার সূত্র ধরে তাঁকে যেন কোনো প্রকার হয়রানি না করা হয়, আমি এটাই চাই।’
আমিনুল হক আজ বলেছেন, ‘সাকিব গত জানুয়ারিতে একদলীয় ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়ে অপরাধ করেছে। সে নির্বাচনটা ইচ্ছা করলেই এড়াতে পারত, নির্বাচন না করলে হয়তো এত সমালোচনার শিকার হতে হতো না। শুধু সাকিব নয়, মাশরাফি বিন মুর্তজাও জাতীয় দলে খেলা অবস্থায় নির্বাচন করে ভুল করেছেন।’
তিনি নিজে রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বলেন, ‘আমি খেলা থেকে অবসর নিয়েই রাজনীতি করেছি, যা সাকিব কিংবা মাশরাফি করেনি। আমি দেশের মানুষের ভোটাধিকার, খুন-গুমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করেছি এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। এ জন্য গত ১৫ বছর আমাকে বহুবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের পরিচয়টি সামনে আসেনি, এসেছে আমার রাজনৈতিক পরিচয়।’
আমিনুল হক আরও বলেন, ‘আমরা একটি অন্ধকার সময় পেরিয়ে এসেছি। আমরা গত ১৫ বছরের কোনো অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা এমন একটি সমাজ ও দেশ চাই, যেখানে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার জন্য কাউকে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে না হয়। সাকিবের ব্যাপারেও আমার একই চাওয়া।’
৫ আগস্ট আদাবরে পোশাক কারখানার কর্মী মো. রুবেল হত্যা মামলায় সাকিব আল হাসানসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাকিবকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিসিবি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যদিও বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, সাকিব দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন এবং আইনি সহায়তা প্রদান করবে।
সাকিব বর্তমানে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে টেস্ট সিরিজ খেলছেন। প্রথম টেস্টে তিনি ৪ উইকেট নিয়েছেন এবং ১৫ রান করেছেন। সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাকে হয়রানি দাবি করে জাতীয় দলের সতীর্থরা ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিন্দা জানিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হবে না।























