
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সাশ্রয়ী ও উপযুক্ত আবাসন খুঁজে বের করা। বিশেষত ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটি বেশ বড় হওয়ায় এসব স্থানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আবাসন খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। তবে সেখানে বিভিন্ন ধরণের আবাসনের সুযোগ থাকায় ব্যক্তির বাজেট, পরিবারের সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১. ফ্লোরিডা:
ফ্লোরিডা রাজ্যের মিয়ামি, অরল্যান্ডো, ট্যাম্পা, ওয়েস্ট পাম বিচসহ অন্যান্য শহরে বাংলাদেশিদের বসবাস ব্যাপক। এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংযোগ থাকায় নতুন প্রবাসীরা সহজেই বাসস্থান খুঁজে পেতে পারেন। মিয়ামি ও অরল্যান্ডোতে এক/দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টগুলি পাওয়া যায় $১,৫০০ থেকে $২,৫০০ এর মধ্যে। যারা আরও কম খরচে থাকতে চান, তারা সাবলেট অ্যাপার্টমেন্ট বা রুমমেট শেয়ারিং অপশনও খুঁজতে পারেন। এছাড়াও, ফেসবুক গ্রুপ বা বাংলাদেশি কমিউনিটির সংস্থা যেমন BAPA (Bangladeshi-American Public Affairs) এর মাধ্যমে বাসা খোঁজার কাজ সহজ হয়।
২. জর্জিয়া:
জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর বসবাস। এখানেও এক বা দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টগুলির দাম প্রায় $১,২০০ থেকে $২,০০০ এর মধ্যে থাকে। আটলান্টার ডরাভিল ও ক্লার্কস্টনের মতো এলাকা বাংলাদেশি পরিবারদের জন্য জনপ্রিয়। যারা অল্প বাজেটে থাকতে চান, তাদের জন্য একক রুম বা রুমমেট শেয়ারিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশি কমিউনিটির ফেসবুক গ্রুপগুলি থেকে সহজেই আবাসনের তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
৩. নিউ ইয়র্ক:
নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি বড় হওয়ায় এখানে প্রবাসীরা সহজেই বাসা পেতে পারেন। নিউ ইয়র্কে আবাসন খরচ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি। এখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টগুলির দাম $২,০০০ থেকে $৩,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস ও ব্রুকলিনের পার্কচেস্টারের মতো এলাকাগুলোতে বাংলাদেশিরা সাধারণত বাস করেন। নতুনরা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মাধ্যমে সাবলেট বা শেয়ারিং অপশন খুঁজে নিতে পারেন।
৪. ক্যালিফোর্নিয়া:
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও স্যাক্রামেন্টো এলাকায় উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে। এখানে আবাসন খরচ অন্যান্য অনেক শহরের তুলনায় বেশি। এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া $২,০০০ থেকে $৩,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে। যারা সাশ্রয়ী বাসস্থান খুঁজছেন, তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির মাধ্যমে শেয়ারিং অপশন নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোতে সাবলেট বাসার চাহিদা বেশি থাকায়, বাংলাদেশি প্রবাসীদের ফেসবুক গ্রুপ এবং ক্রেইগসলিস্টের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় কর্মসংস্থানের বাজারের উত্থান
কিভাবে খুঁজবেন বাসস্থান:
১. ফেসবুক গ্রুপ: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি প্রবাসীরা প্রায়ই বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে জিজ্ঞাসা করলে স্থানীয় বাসা মালিকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব।
২. বাংলাদেশি কমিউনিটি সংস্থা: ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনগুলো আবাসন খুঁজতে সাহায্য করে। তারা নতুন প্রবাসীদের সাথে স্থানীয় বাড়িওয়ালা ও শেয়ারিং সুবিধা প্রদানকারীদের সংযোগ করিয়ে দিতে পারে।
৩. অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: Zillow, Apartments.com, Craigslist এর মতো ওয়েবসাইটগুলোতে বিভিন্ন ধরণের আবাসনের তথ্য পাওয়া যায়। প্রবাসীরা এসব সাইট থেকে তাদের বাজেট অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্ট, কনডো বা বাসা খুঁজে নিতে পারেন।
৪. রুমমেট শেয়ারিং: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রবাসীদের জন্য রুমমেট শেয়ারিং বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। এতে এককভাবে বাসা ভাড়া নেওয়ার তুলনায় খরচ কম হয় এবং থাকার পরিবেশও ভালো হয়।
আবাসনের ধরন:
১. অ্যাপার্টমেন্ট: শহর এলাকায় বসবাসের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট একটি সাধারণ অপশন। এক, দুই বা তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টগুলি বিভিন্ন ধরণের সুবিধা প্রদান করে।
২. শেয়ারিং রুম: বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সাবলেট বা শেয়ারিং রুম নেওয়া বেশ জনপ্রিয়। এতে বাসা ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ ভাগ করে নেওয়া যায়।
৩. বাড়ি ভাড়া: যারা পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তাদের জন্য বাড়ি ভাড়া নেওয়া একটি ভালো অপশন। পরিবার সংখ্যা অনুযায়ী বাড়ির আকার এবং সুবিধা বেছে নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজে পাওয়া সহজ, যদি তারা সঠিক প্ল্যাটফর্ম এবং সংযোগগুলির সহায়তা নেন। ফেসবুক গ্রুপ, বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে প্রবাসীরা তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসন পেতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যের মাধ্যমে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা আরও সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সহজ উপায়























