Google search engine

প্রাথমিক পর্যায়ে আলঝেইমার্স শনাক্তে চীনা গবেষকদের এআই ব্যবহার

বয়স বাড়লেই যেন এক আতঙ্কের নাম আলঝেইমার্স। মস্তিষ্কের এ রোগ হলে মুছে যেতে থাকে স্মৃতি। চলাফেরা থেকে শুরু করে চলতে-ফিরতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

সারা বিশ্বের মতো চীনেও বাড়ছে রোগটির প্রকোপ। তবে বসে নেই চীনের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। রোগটিকে আগাম শনাক্ত করতে পারলে রোগীর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব। আর এ কাজে চীনা গবেষকরা ব্যবহার করছেন অত্যাধুনিক উচ্চগতির ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা প্রযুক্তি।

২০২২ সালে চীনে আলঝেইমার্সে আক্রান্ত ছিল প্রায় এক কোটি। এখন ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় ৫ শতাংশ এবং প্রতি ১০ বছর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এই হার বাড়ছে ৫ শতাংশ হারে। আবার চীনে ৮০ বছরের বেশি বয়সী লোকদের ক্ষেত্রে এই হার এখন ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ রোগের উপসর্গের সূচনা প্রকাশ পেতে কয়েক দশক লাগতে পারে। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চায়না অ্যাসোসিয়েশন ফর আলঝেইমার্স ডিজিজ সংস্থার সভাপতি ওয়াং চুন জানান, “আমাদের ফোকাস এখন রোগটির প্রথম পর্যায়ের ওপর যখন রোগীর কোনো ক্লিনিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ওই সময় শনাক্তকরণে কিছু ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করি। তারপর রোগীর জীবনধারা এবং অন্যান্য উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ দিই। এতে উপসর্গ প্রকাশের হার কমানো সম্ভব।”

চীনের সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, দেশটিতে আলঝেইমার্স আক্রান্ত মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে শনাক্তকরণ সেবা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যাটি কম হওয়ার কারণ হলো, মস্তিষ্কের বার্ধক্য মূল্যায়ন করার পদ্ধতিটা তুলনামূলকভাবে এখনও পিছিয়ে আছে যা প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয়ের হার কমিয়ে দেয়।

তবে চীনে এখন প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

বেইজিংয়ের থিয়ানথান হাসপাতাল এই বছরের জুনে মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত লক্ষণ নির্ণয়ে কিছু নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে।

হাসপাতালের ইন্টারেক্টিভ টেকনোলজি ল্যাবরেটরিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদমের সাহায্যে রোগীর অঙ্গভঙ্গি শনাক্তকরণ, চোখের নড়াচড়া বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মস্তিষ্কের মোটর ফাংশন, কগনিটিভ ফাংশন এবং সেরিব্রোভাসকুলার অবস্থা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যাচ্ছে। এতে করে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বার্ধক্যও ধরা পড়ছে দ্রুত।

বেইজিং থিয়ানথান হাসপাতালের নিউরোলজি সেন্টারের পরিচালক চাও সিংছুয়ান জানান, “আমরা হাই-স্পিড ক্যামেরা দিয়ে পুরো নড়াচড়া রেকর্ড করি। তারপর প্রতিটি পদক্ষেপের দৈর্ঘ্য, গতি ও ছন্দের তারতম্য বিশ্লেষণ করি। এগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পাই রোগ কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে।”

চীনা গবেষকরা আরও জানান, এ রোগে নড়াচড়ার অস্বাভাবিকতার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যেতে প্রায় ১০ বছর লাগে যা রোগটিকে প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট সময় দেয়।

চাইনিজ একাডেমি অভ সায়েন্সেস-এর অধীনে সফটওয়্যার ইন্সটিটিউটের গবেষক থিয়ান ফং জানান, “আমাদের নতুন প্রযুক্তিগুলো শুধু হাসপাতালে নয়, বাড়িতেও প্রয়োগ করা যাবে। যেমন: চোখের নড়াচড়ার ফাংশনসহ ডেপথ ক্যামেরা ও ভিআর হেলমেটগুলো প্রবীণরা বাড়িতেও পরতে পারবেন। এতেও তাদের ভেতর অস্বাভাবিকতার সংকেত ধরা পড়বে।”

সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয় এমন দূরারোগ্য নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ আলঝেইমার্স। আর তাই এ রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে চীনের অগ্রগতির দিকেই মূলত তাকিয়ে আছে বিশ্বের আরও অনেক উন্নত দেশ।

সূত্র: সিএমজি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest