
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের জলবায়ু নীতির মাঝে তীব্র বিরোধ দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান পার্টির ট্রাম্প যেখানে ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’ স্লোগানে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে, সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা সবুজ জ্বালানির পক্ষে। এ দুই প্রার্থীর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জলবায়ু সংকটের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় হওয়ায় এ নির্বাচন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবারের নির্বাচনী প্রচারে জলবায়ু ইস্যুটি খুব একটা প্রাধান্য পাচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হলে সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
জলবায়ু ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান সবসময়ই প্রতিক্রিয়াশীল। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, যেটি আবার বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুক্ত হয়। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসলে তিনি আবারো প্যারিস চুক্তির বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে চলবেন বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে, রোডিয়াম গ্রুপের তথ্যমতে, বাইডেনের প্রেসিডেন্সির সময় যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সাল পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবিরের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে কমলা ও বাইডেন প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৯ সালে প্রাইমারি নির্বাচনে কমলা ফ্র্যাকিং নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে এবার পেনসিলভানিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের আকর্ষণে কিছুটা সুর পরিবর্তন করেছেন। ট্রাম্প তাঁকে ‘গ্রিন নিউ স্ক্যাম’ নামে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা কার্বন ব্রিফের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জন্য অতিরিক্ত ৪০০ কোটি টন কার্বন নিঃসরণ হতে পারে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের বার্ষিক নিঃসরণের সমান।























