Google search engine

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে পরিবর্তনের ছোঁয়া

আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কনস্যুলেট সেবার চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একমাত্র ভরসাস্থল। তবে বিগত সময়ে স্থান সংকুলান এবং অন্যান্য অসুবিধার কারণে কনস্যুলেট সেবা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল।

নতুন ঠিকানায় নতুন উদ্যোগ

জুলাই আন্দোলনের পর ১ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে। নতুন অফিসটি লং আইল্যান্ড সিটির ৩১-১০ ৩৭তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত, যা পুরোনো অফিসের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার স্কয়ার ফিট বড়। এখানে সেবা গ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, নামাজের স্থান, ওয়াশরুম এবং পার্কিংসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। নতুন ঠিকানার নিকটেই বাস ও ট্রেন স্টেশন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত।

May be an image of map and text

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা

সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পেমেন্ট প্রক্রিয়ায়। আগে মানি অর্ডার নিয়ে সমস্যায় পড়তেন সেবাগ্রহীতারা। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন না। এখন কনস্যুলেটে ডিজিটাল মেশিনে পেমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই পেমেন্ট করা যাবে।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

তবে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন, সার্ভার ডাউন হওয়া বা কাগজপত্র যাচাইয়ে দীর্ঘসময় লেগে যাওয়ার মতো সমস্যা। মিশিগান থেকে আসা দুই সেবাগ্রহীতা জানিয়েছেন, পূর্ব নির্ধারিত সেবা সংক্রান্ত তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হলে ভোগান্তি কমত।

নিউইয়র্কে একটি স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস এবং একটি পাসপোর্ট মেশিন স্থাপন করলে সেবা গ্রহীতারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সরকারের অর্থ সাশ্রয় ও আয়ের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করেন সেবা প্রার্থীরা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কনস্যুলেট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কনস্যুলেটের কাউন্সেলর ও হেড অব চ্যান্সেরি ইশরাত জাহান জানিয়েছেন, বর্তমান অফিসের জন্য মালিকপক্ষ কোনো সিকিউরিটি মানি রাখেনি। ভবিষ্যতে কনস্যুলেটের জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন, ভ্রাম্যমাণ সেবা চালু করা, এবং সেবার মান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কনসাল জেনারেলের মন্তব্য

কনসাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, পুরোনো অফিসের তুলনায় বর্তমান অফিসে সেবার মান ও পরিসরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আগামীতে দূরবর্তী এলাকাগুলোর জন্য বছরে অন্তত একদিন করে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলেট সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: মানবজমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest