
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিচারবিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রসমাজকে উচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রায় আট মিনিটের এ ভাষণটি সম্প্রচার করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন।
তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তাদের হতাশ হতে হবে না।”
হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, যারা হত্যাকাণ্ড ও লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এরা যেই হোক না কেন তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আরও ঘোষণা করছি হত্যাকাণ্ডসহ যে সকল অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সে সকল বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।”
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিবারের সদস্যের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা দরকার, সেটা আমি করব।”
আদালতের রায়ে কোটা বাতিলের পর হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতিকারীদের সংঘাতের সুযোগ তৈরি করে দেবেন না।”
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে, উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এসব ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্তের পাশাপাশি কারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উসকে দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।























