
মার্কিন নাগরিকদের প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে উৎসাহ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি এনেছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে জনপ্রিয় মেং গত ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে তোলেন।
পরে প্রস্তাবটি পরীক্ষা করার জন্য কংগ্রেসের কমিটি ফর ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্মের কাছে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়, শিক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমর্থন জানানো এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য।
এ দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের অধীনে থাকা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা তাদের মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার দাবিতে আন্দোলনে নেমে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিল। সেই দিনের স্মরণে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষাবাদ প্রচারের জন্য ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির ওই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউনেস্কো প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য একটি নির্দিষ্ট থিম নির্ধারণ করে যার উদ্দেশ্য হলো ভাষাগত শিক্ষার বিভিন্ন দিক প্রচার করা।
এই বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ২৫তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে যা ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষাবাদের গুরুত্বকেই তুলে ধরেছে।
গ্রেস মেংয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র একটি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী এবং বিদ্যমান ভাষাগুলোর সংরক্ষণ সেই ঐতিহ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেহেতু প্রতিনিধি পরিষদে দু’টি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে।
১. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লক্ষ্য ও আদর্শকে সমর্থন জানানো।
২. যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে উপযুক্ত অনুষ্ঠান, কর্মসূচি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে উৎসাহিত করা।























