
২০২৪ ইউরো কাপ ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ডের মধ্যে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে তিনটে গোল দেখতে পায় দর্শকরা।
জার্মানির বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে ২-১ গোলে জিতে চতুর্থবার ইউরো কাপ জয় করল স্পেন। ইতিপূর্বে তারা ১৯৬৪, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে ইউরো কাপের খেতাব জয় করে।
ম্যাচে স্পেনের পক্ষে একটি করে গোল করেন নিকো উইলিয়ামস এবং বদলি খেলোয়াড় ওয়ারজাবাল। ইংল্যান্ডের পক্ষে সমতা ফেরানো গোলটি করেন কোল পামার।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ১২ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেছিলেন স্প্যানিশ উইঙ্গার নিকো কিন্তু তিনি ফিনিশ করতে পারেননি। ১৮ মিনিটে স্পেন ফের আক্রমণে যায়। এবার ইয়ামলের পা থেকে বল যায় মোরাতার কাছে। তবে কাজ হয়নি। খেলার ২৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখলেন হ্যারি কেন এবং ৩১ মিনিটে স্পেনের দানি অলমো। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে গোল করার একটা দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন মোরাতা। নিখুঁত একটা থ্রু বল তাঁর পায়ে এসেছিল কিন্তু সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্পেন। ম্য়াচের ৪৭ মিনিটে দলকে ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। ইংল্যান্ড বক্সের ডান দিক থেকে লামিনে ইয়ামাল তাঁর দিকে বলটা বাড়ালে তিনি সহজেই বলটা জড়িয়ে দেন ইংল্যান্ডের জালে। এরপর স্পেন যেন আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। ৪৯ মিনিটে উইলিয়ামসের পা থেকে বল চলে যায় অলমোর কাছে। তিনি ছোট একটা টার্ন নিয়ে গোলমুখী শট করলেও গোল পোস্টের ডান প্রান্তের সামান্য দূর থেকে বলটা বেরিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে মোরাতার কাছে স্পেনের ব্যবধান ২-০ করার সুযোগ এলেও সেটা হাতছাড়া হয়ে যায়।
ম্য়াচের ৬০ মিনিটে তুলে নেওয়া হয় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেমি ফাইনাল ম্য়াচের বদলি খেলোয়াড় ওলি ওয়াটকিন্স।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরান কোল পামার। উইং থেকে বুকায়ো সাকা বক্সের মধ্যে বেলিংহামকে লক্ষ্য করে বল বাড়ালে বেলিংহ্যাম হালকা টাচে বলটা পামারের দিকে এগিয়ে দেন। অবশেষে গোল পোস্টের বটম লেফট কর্নার দিয়ে বলটা নিখুঁতভাবে স্পেনের জালে জড়িয়ে দেন পামার।

৮২তম মিনিটে দলকে ফের এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ইয়ামাল। তার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। এর মাত্র চার মিনিট পর খেলার ৮৬তম মিনিটে বাম দিক থেকে ছয় গজ বক্সের মুখে দারুণ এক পাস বাড়ান মার্ক কুকুরেইয়া। আর ডান পায়ের স্লাইড শটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে নেন মোরাতার বদলে খেলতে নামা ওয়ারজাবাল। খেলায় স্পেন ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।
বাকি সময়টাতে ইংল্যান্ড স্পেনের জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হলে শেষ বাঁশি বাজার পর ইউরোর শিরোপা চলে যায় স্পেনের ঘরে।
তাই সেই ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আরেকটি ট্রফির অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডকে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোর রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।























