Google search engine

রেকর্ড ১৬তম কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

টানটান উত্তেজনায় ভরা নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোন গোল না হওয়ায় কোপা আমেরিকার ফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২ মিনিটে জিওভান্নি লো সেলসোর বাড়ানো বলে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে এবারের কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা।

মেসির ক্লাব হোম গ্রাউন্ড মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট দেরিতে শুরু হয় আজকের ফাইনাল ম্যাচটি। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম আক্রমণটা করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এর পর থেকেই শুরু হয় কলম্বিয়ার আধিপত্য। পুরো প্রথমার্ধজুড়ে আর্জেন্টিনার ওপরে ছড়ি ঘুরিয়েছেন হামেস রদ্রিগেজ, জেফারসন লারমা, জন কর্ডবা, লুইস দিয়াজরা। প্রথমার্ধে প্রায় সবদিক থেকে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। প্রথমার্ধের খেলা শেষে কলম্বিয়ার বলের দখল ছিল ৫৩ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৪৭ শতাংশ। কলম্বিয়া গোলে শট নিয়ে লক্ষ্যে রেখেছে ৪টি, আর্জেন্টিনা ১টি। কলম্বিয়ার মোট পাস যেখানে ২৫৭টি, আর্জেন্টিনার সেখানে ২৩২টি।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণে যেতে থাকে। কিন্তু বিধি বাম। একের পর এক গোলের সুযোগগুলো নষ্ট হচ্ছিলো। এর মধ্যেই ম্যাচের ৬৩ মিনিটে দিয়াজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে পায়ের পেশিতে টান লাগে মেসির। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার কিছুক্ষণ পর বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁর জায়গায় মাঠে আসেন নিকোলাস গঞ্জালেস। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি। পরে ডাগ আউটে গিয়ে কাঁদতেও দেখা যায় তাঁকে।

মেসির বদলি নামা নিকোলাস গঞ্জালেস অবশ্য একটু পরেই তালিয়াফিকোর পাস থেকে বল জালে জড়ান, কিন্তু এর আগেই সহকারী রেফারি অফসাইডের জন্য পতাকা তোলেন। ভিএআরে দেখা গেছে তালিয়াফিকো ছিলেন অফসাইডে। মিনিটখানেক পরেই নিকো গঞ্জালেসের আরেকটি শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর আরও দুটি সুন্দর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ৮৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি ডি মারিয়া। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মারিয়ার ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেয়ে যেতেন নিকো গঞ্জালেস। কিন্তু এবারো হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইনদের। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

আরো পড়ুনঃ স্টেডিয়াম মেসির দলের কিন্তু দখলে কলম্বিয়ার সমর্থকদের

অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার পাশাপাশি কলম্বিয়াও একটা করে সুযোগ মিস করে। অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহুর্ত। ১১২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে রদ্রিগো দি পলের পাস পান জিওভান্নি লো সেলসো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন ডান প্রান্তে বক্সের কাছাকাছি থাকা মার্তিনেজকে। ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড আর ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় জালে জড়ান বল। উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে হার্ডরক স্টেডিয়ামের আর্জেন্টাইন দর্শকরা। এ নিয়ে এবারের কোপা আমেরিকায় লাউতারো মার্তিনেজের গোলের সংখ্যা হলো ৫টি যে তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এনে দিয়েছে। গোলের পর কোচ উঠিয়ে নেন শেষ ম্যাচ খেলতে নামা ডি মারিয়াকে। মাঠ থেকে ডাগআউটে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে তিনি জড়িয়ে ধরেন মেসিকে। মেসিও কাঁদলেন মারিয়াকে জড়িয়ে ধরে। দীর্ঘ ১৬ বছরের সতীর্থকে বিদায় দেওয়ার কষ্টের সঙ্গে এই কান্নায় জড়িয়ে ছিল কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতার আনন্দও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

More articles

Latest